০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়ায় ১২ দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১২ দিন পরও খোঁজ মেলেনি শিক্ষার্থী মরিয়মের। মহিপুর কোঅপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় গোটা পরিবারে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। অজানা আশঙ্কায় পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করছেন।পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের এই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের খবরটি গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আদুরে কন্যার খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। মহিপুর থানায় করেছেন জিডি।মরিয়মের বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার জানান, ৩০ জুন মঙ্গলবার দুপুরের পরে স্কুলব্যাগ নিয়ে মরিয়ম কোচিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সবাই এখন অজানা শঙ্কায় আহাজারি করছেন।বোন জামাই মো. নাঈম জানান, একটা সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে মরিয়ম বার বার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে আর একটু জোর কদমে হাঁটছে। মনে হচ্ছিল কেউ তাকে তাঁড়া করছে। তিনি বলেন, কোথাও কোন প্রেমের সম্পর্ক আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা সব ধরনের খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কোথাও এমন কিছুই পাইনি। এছাড়া কোন ছেলের সঙ্গে ওর তেমন কোন ওঠাবসাও ছিল না। মরিয়মের বান্ধবীদের কাছ থেকে বার বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান নাঈম।মরিয়মের মা পারুল বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে সব সময় নামাজ পড়ত। বোরকা পরে চলাচল করত। কোনদিন উশৃঙ্খল কিছু ওর মধ্যে আমরা দেখিনি।’ সে আরও বলেন, আমরা সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। তেমন কিছুই পাইনি।’ তার ভাষ্যমতে, ‘মরিয়ম কখনো ঘরের বাইরে থাকতে পারে না।’ সে বেঁচে আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন পারুলবেগম।বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, ‘প্রায় ১৪ বছর বয়স মরিয়মের। এর মধ্যে কোনদিন ফোনেও কারও সাথে কখনো কথা বলতে দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘ মরিয়ম আদৌ বেঁচে আছে কি না আমরা বুঝতে পারছি না।’ এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বানি কান্ত শিকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা খুব উদ্বিগ্ন রয়েছেন। কারণ এর আগেও এই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীছেলেধরার কবলে পড়েছিল। আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মরিয়মের সন্ধান পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। পরিবার থেকে জিডি করা হয়েছে। আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে আইনের সহযোগিতা নিচ্ছি।মহিপুর থানার ওসি মো: শামিম হাওলাদার জানান, পরিবার থেকে জিডি করা হয়েছে। আমাদের টিম মরিয়মের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তাকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলাপাড়ায় ১২ দিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ১১:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১২ দিন পরও খোঁজ মেলেনি শিক্ষার্থী মরিয়মের। মহিপুর কোঅপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় গোটা পরিবারে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। অজানা আশঙ্কায় পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করছেন।পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের এই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের খবরটি গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আদুরে কন্যার খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। মহিপুর থানায় করেছেন জিডি।মরিয়মের বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার জানান, ৩০ জুন মঙ্গলবার দুপুরের পরে স্কুলব্যাগ নিয়ে মরিয়ম কোচিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সবাই এখন অজানা শঙ্কায় আহাজারি করছেন।বোন জামাই মো. নাঈম জানান, একটা সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে মরিয়ম বার বার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে আর একটু জোর কদমে হাঁটছে। মনে হচ্ছিল কেউ তাকে তাঁড়া করছে। তিনি বলেন, কোথাও কোন প্রেমের সম্পর্ক আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা সব ধরনের খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কোথাও এমন কিছুই পাইনি। এছাড়া কোন ছেলের সঙ্গে ওর তেমন কোন ওঠাবসাও ছিল না। মরিয়মের বান্ধবীদের কাছ থেকে বার বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান নাঈম।মরিয়মের মা পারুল বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে সব সময় নামাজ পড়ত। বোরকা পরে চলাচল করত। কোনদিন উশৃঙ্খল কিছু ওর মধ্যে আমরা দেখিনি।’ সে আরও বলেন, আমরা সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। তেমন কিছুই পাইনি।’ তার ভাষ্যমতে, ‘মরিয়ম কখনো ঘরের বাইরে থাকতে পারে না।’ সে বেঁচে আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন পারুলবেগম।বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, ‘প্রায় ১৪ বছর বয়স মরিয়মের। এর মধ্যে কোনদিন ফোনেও কারও সাথে কখনো কথা বলতে দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘ মরিয়ম আদৌ বেঁচে আছে কি না আমরা বুঝতে পারছি না।’ এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বানি কান্ত শিকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা খুব উদ্বিগ্ন রয়েছেন। কারণ এর আগেও এই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীছেলেধরার কবলে পড়েছিল। আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মরিয়মের সন্ধান পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। পরিবার থেকে জিডি করা হয়েছে। আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে আইনের সহযোগিতা নিচ্ছি।মহিপুর থানার ওসি মো: শামিম হাওলাদার জানান, পরিবার থেকে জিডি করা হয়েছে। আমাদের টিম মরিয়মের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তাকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।