০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুয়াকাটা সৈকতে ভয়াবহ ভাঙন, বিলীনের পথে পুলিশ বক্স

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তে মেরিন ড্রাইভের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালি সরে গিয়ে দেবে যাচ্ছে বাঁধ রক্ষায় দেওয়া ব্লক। তাৎক্ষণিকভাবে বালি বোঝাই বস্তা ফেলা হলেও দৃশ্যমান ফল আসছে না। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যে কোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা সাগরে বিলীন হতে পারে। হুমকির মুখে পড়তে পারে পৌরসভাসহ উপকূলের দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।Advertisementগত ৬০ বছর ধরে ভাঙনের ফলে জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে কুয়াকাটার সাগর। তবে শেষ ৩০ বছরে ভাঙনের গতি বেড়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় সমুদ্র গিলে খাচ্ছে মাইলের পর মাইল এলাকা। ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি গেস্ট হাউজসহ শত শত প্রতিষ্ঠান। এবার মেরিন ড্রাইভের বেড়িবাঁধ ভাঙলে শুধু ঘরবাড়ি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ধ্বংসের মুখে পড়বে পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে হাজার কোটি টাকায় তৈরি হোটেল, মোটেল, রিসোর্টসহ শত স্থাপনা।এসব ভাঙন ঠেকাতে গত ৫৫ বছরে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কোনো সরকার। এর মধ্যে বিগত সরকারের সময়ে পাউবোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই সংক্রান্ত চার প্রকল্প ফেরত পাঠিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। বর্তমানে নতুন করে প্রকল্প দাখিলের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর কর্মকর্তারা।সৈকত এলাকার বাসিন্দা সালাম হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমানে সাগর পাড়ের যে পর্যন্ত যেতে পারেন পর্যটকরা, সমুদ্র ছিল সেখান থেকে আরও অন্তত দেড় কিলোমিটার সামনে। এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগানসহ অসংখ্য স্থাপনা। এর সবকিছুই এখন সমুদ্রের নিচে।’ কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘জিরো পয়েন্টের পশ্চিম দিকের মেরিন ড্রাইভের একটি অংশে বালু সরে দেবে গেছে ব্লক। কোনোভাবে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে পানি ঢুকে পড়বে সাগর পাড় থেকে মহিপুর পর্যন্ত থাকা লাখো মানুষের বসতিসহ ফসলি জমিতে। তলিয়ে যাবে পর্যটন এলাকার সব স্থাপনাসহ দুটি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা।’ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘প্রতিবছরই পাড় গিলে খেয়ে এভাবে এগোচ্ছে সমুদ্র। গত বছর যেসব স্থাপনা ছিল সৈকতের পাশে সেগুলো এখন সাগরে। এবছরও হুমকির মুখে ট্যুরিস্ট পুলিশের স্টেশন ক্যাম্পসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। হয়তো সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এগুলোও বিলীন হবে সমুদ্রে। বর্ষা এলেই এভাবে তাণ্ডব শুরু হয় সমুদ্রের।’কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে কোনোভাবে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে কুয়াকাটা বলে কোনো পর্যটনকেন্দ্রের অস্তিত্ব থাকবে না। প্রতিবছর বালির বস্তা না ফেলে এখনই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা উচিত সরকারের।কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময়ে পরপর ৪ বার কুয়াকাটার সাগর ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পনা কমিশনে। তবে তা প্রতিবারই ফেরত পাঠায় কমিশন। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আগে কী হয়েছে বা না হয়েছে সে ব্যাপারে বলতে পারব না। তবে আমরা বর্তমানে একটি প্রকল্পের ডিজাইন করছি। সাগর ভাঙন ঠেকানো আর তীরজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব থাকবে এই ডিজাইনে। সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাব। বাকি সিদ্ধান্ত কমিশন এবং সরকারের।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য বর্তমানে যে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে, তার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। অন্যান্য প্রকল্প থেকে এনে বস্তাগুলো ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুয়াকাটা সৈকতে ভয়াবহ ভাঙন, বিলীনের পথে পুলিশ বক্স

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তে মেরিন ড্রাইভের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালি সরে গিয়ে দেবে যাচ্ছে বাঁধ রক্ষায় দেওয়া ব্লক। তাৎক্ষণিকভাবে বালি বোঝাই বস্তা ফেলা হলেও দৃশ্যমান ফল আসছে না। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যে কোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা সাগরে বিলীন হতে পারে। হুমকির মুখে পড়তে পারে পৌরসভাসহ উপকূলের দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।Advertisementগত ৬০ বছর ধরে ভাঙনের ফলে জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে কুয়াকাটার সাগর। তবে শেষ ৩০ বছরে ভাঙনের গতি বেড়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় সমুদ্র গিলে খাচ্ছে মাইলের পর মাইল এলাকা। ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি গেস্ট হাউজসহ শত শত প্রতিষ্ঠান। এবার মেরিন ড্রাইভের বেড়িবাঁধ ভাঙলে শুধু ঘরবাড়ি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ধ্বংসের মুখে পড়বে পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে হাজার কোটি টাকায় তৈরি হোটেল, মোটেল, রিসোর্টসহ শত স্থাপনা।এসব ভাঙন ঠেকাতে গত ৫৫ বছরে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কোনো সরকার। এর মধ্যে বিগত সরকারের সময়ে পাউবোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই সংক্রান্ত চার প্রকল্প ফেরত পাঠিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। বর্তমানে নতুন করে প্রকল্প দাখিলের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর কর্মকর্তারা।সৈকত এলাকার বাসিন্দা সালাম হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমানে সাগর পাড়ের যে পর্যন্ত যেতে পারেন পর্যটকরা, সমুদ্র ছিল সেখান থেকে আরও অন্তত দেড় কিলোমিটার সামনে। এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগানসহ অসংখ্য স্থাপনা। এর সবকিছুই এখন সমুদ্রের নিচে।’ কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘জিরো পয়েন্টের পশ্চিম দিকের মেরিন ড্রাইভের একটি অংশে বালু সরে দেবে গেছে ব্লক। কোনোভাবে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে পানি ঢুকে পড়বে সাগর পাড় থেকে মহিপুর পর্যন্ত থাকা লাখো মানুষের বসতিসহ ফসলি জমিতে। তলিয়ে যাবে পর্যটন এলাকার সব স্থাপনাসহ দুটি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা।’ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘প্রতিবছরই পাড় গিলে খেয়ে এভাবে এগোচ্ছে সমুদ্র। গত বছর যেসব স্থাপনা ছিল সৈকতের পাশে সেগুলো এখন সাগরে। এবছরও হুমকির মুখে ট্যুরিস্ট পুলিশের স্টেশন ক্যাম্পসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। হয়তো সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এগুলোও বিলীন হবে সমুদ্রে। বর্ষা এলেই এভাবে তাণ্ডব শুরু হয় সমুদ্রের।’কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে কোনোভাবে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে কুয়াকাটা বলে কোনো পর্যটনকেন্দ্রের অস্তিত্ব থাকবে না। প্রতিবছর বালির বস্তা না ফেলে এখনই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা উচিত সরকারের।কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময়ে পরপর ৪ বার কুয়াকাটার সাগর ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পনা কমিশনে। তবে তা প্রতিবারই ফেরত পাঠায় কমিশন। কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আগে কী হয়েছে বা না হয়েছে সে ব্যাপারে বলতে পারব না। তবে আমরা বর্তমানে একটি প্রকল্পের ডিজাইন করছি। সাগর ভাঙন ঠেকানো আর তীরজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব থাকবে এই ডিজাইনে। সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাব। বাকি সিদ্ধান্ত কমিশন এবং সরকারের।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য বর্তমানে যে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে, তার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। অন্যান্য প্রকল্প থেকে এনে বস্তাগুলো ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।’