০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

আ.লীগের ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পার্থক্য কোথায়?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটি আশা করছে, কার্ডের মাধ্যমে পরিবার প্রধান নারীর হাতে নগদ অর্থ বা সমপরিমাণ খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে পরিবারভিত্তিক সাপোর্ট দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা।আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চালু হওয়া ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল টিসিবি’র স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য বিতরণকেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোজ্যপণ্য ভর্তুকি মূল্যে কেনার সুযোগ দেওয়া হতো। তবে বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৭ লাখ পরিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রতিমাসে কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি এবং ৫ কেজি চাল কিনতে পারছেন। এ ছাড়া চা, লবণ, ডিটারজেন্ট ও সাবানও পণ্য তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড মূলত নগদ সহায়তা বা সমপরিমাণ খাদ্যপণ্য প্রদানের সামাজিক সাপোর্ট মডেল। দলটি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে দেওয়া হবে এবং ধীরে ধীরে চার কোটি পরিবারকে কাভার করা হবে। কার্ডে দেওয়া অর্থ পরিবার প্রধান নারীকে বরাদ্দ করা হবে, যাতে তিনি পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষার প্রয়োজন ও ছোট বিনিয়োগে ব্যবহার করতে পারেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করার পাশাপাশি দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে সঠিক ভুক্তভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছ বিতরণ এবং মনিটরিং ব্যবস্থা থাকছে কিনা, তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, কার্ডের ফ্রেম তৈরি হলেও বিতরণ কৌশল ও অর্থায়নের উৎস ভোটের পর নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসিক সহায়তা হিসেবে নগদ বা খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হবে এবং এটি দেশের বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় করবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে দলের সামাজিক সাপোর্ট নীতি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আ.লীগের ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পার্থক্য কোথায়?

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটি আশা করছে, কার্ডের মাধ্যমে পরিবার প্রধান নারীর হাতে নগদ অর্থ বা সমপরিমাণ খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে পরিবারভিত্তিক সাপোর্ট দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা।আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চালু হওয়া ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল টিসিবি’র স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য বিতরণকেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোজ্যপণ্য ভর্তুকি মূল্যে কেনার সুযোগ দেওয়া হতো। তবে বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৭ লাখ পরিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রতিমাসে কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি এবং ৫ কেজি চাল কিনতে পারছেন। এ ছাড়া চা, লবণ, ডিটারজেন্ট ও সাবানও পণ্য তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড মূলত নগদ সহায়তা বা সমপরিমাণ খাদ্যপণ্য প্রদানের সামাজিক সাপোর্ট মডেল। দলটি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে দেওয়া হবে এবং ধীরে ধীরে চার কোটি পরিবারকে কাভার করা হবে। কার্ডে দেওয়া অর্থ পরিবার প্রধান নারীকে বরাদ্দ করা হবে, যাতে তিনি পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষার প্রয়োজন ও ছোট বিনিয়োগে ব্যবহার করতে পারেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করার পাশাপাশি দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে সঠিক ভুক্তভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছ বিতরণ এবং মনিটরিং ব্যবস্থা থাকছে কিনা, তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, কার্ডের ফ্রেম তৈরি হলেও বিতরণ কৌশল ও অর্থায়নের উৎস ভোটের পর নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসিক সহায়তা হিসেবে নগদ বা খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হবে এবং এটি দেশের বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় করবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে দলের সামাজিক সাপোর্ট নীতি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।